জনপ্রিয় শিক্ষক রামপ্রসাদ

দেড় বছর বয়সে পোলিও হয়েছিল। অকেজো হয়ে গিয়েছিল একটি পা। ক্রাচে ভর দিয়েই লেখাপড়া শেষ করেছেন। হয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক। রামপ্রসাদ ঘোষ জনপ্রিয় শিক্ষক। মাহবুবর রহমান সুমন গল্প করে এসেছেন

১৯৭৭ সালে জন্ম। কৃষ্ণপদ ঘোষ ও বিজয়লক্ষ্মীর পাঁচ সন্তানের সবার ছোট রামপ্রসাদ। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত বাবা তাঁকে ঘরেই পড়িয়েছেন। তারপর একদিন দাদা শংকর ঘোষ তাঁকে কাঁধে চড়িয়ে স্কুলে নিয়ে যান। স্কুলজীবনের প্রথম পরীক্ষায়ই দ্বিতীয় হয়েছিলেন রামপ্রসাদ। স্কুলে যেতেন স্কুলশিক্ষক বাবার সাইকেলে চড়ে। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৯ সালে খুলনার বিএল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক শেষ করেন। স্নাতকোত্তর করেন ২০০০ সালে। উল্লেখ্য, ক্রাচ তাঁর সঙ্গী ছয় বছর বয়স থেকেই।

পড়াতে ভালোবাসেন

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় রামপ্রসাদের শিক্ষকতায় হাতেখড়ি। খুলনায় গিয়ে কোচিং সেন্টারে পড়িয়েছেন। পড়ানোর টাকা দিয়েই নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছেন। তারপর আলাউদ্দিন ডিগ্রি কলেজে যোগ দিয়েছেন ২০০৩ সালে। রামপ্রসাদ বলেন, ‘আমি মজা করে পড়াতে ভালোবাসি। চাইলে সারা দিন পড়াতে পারি। পড়ানোটা আমার কাছে অবসর কাটানোর মতো আনন্দের ব্যাপার।’

গড়েছেন একটি লাইব্রেরি

নিজে অনেক পড়েন। নিজের বাড়িতেই গড়েছেন একটি লাইব্রেরি। সেটা ছিল  ২০০৯ সালের এপ্রিল মাস। লাইব্রেরির নাম, ‘স্মৃতি অনির্বাণ গ্রন্থালয়’। বই আছে কয়েক শ। কিছু বই নিজের কেনা আর অনেকগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। রামপ্রসাদ বলেন, ‘আশা করি এই লাইব্রেরি একদিন অনেক বড় হবে। মানুষ আমাকে লাইব্রেরিটি দিয়ে মনে রাখবে।’ 

লেখালেখিও করেন কিছু কিছু

 

ছাত্রজীবনেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ জন্মে। অনিয়ম, অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ধরতে পছন্দ করেন তিনি। বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এখন বেশি ঝোঁক কবিতা লেখার প্রতি।

জনপ্রিয় শিক্ষক

রামপ্রসাদ ঘোষ শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মেহেদী হাসান তাঁর ছাত্র ছিলেন। বললেন, ‘স্যার খুব মজা করে পড়ান। ব্যাকরণ এমনভাবে পড়িয়েছেন যে সারা জীবন মনে থাকবে।’ কথা হয়েছিল সোহেলী আক্তারের সঙ্গেও। বলছিলেন, ‘স্যারের ক্লাস মিস করি না। তাঁর ক্লাস করে আনন্দ পাই।’

একান্ত রামপ্রসাদ

প্রায় তিন যুগ ধরে রামপ্রসাদ ক্রাচে ভর দিয়ে চলেছেন। অনেক মানুষ তাঁর জীবনযুদ্ধের সঙ্গী ছিলেন। একজন যেমন শম্পা মল্লিক। মাস্টার্সে পড়ার সময় শম্পার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তারপর প্রেমও হয়। শেষে বিয়ে। তাঁদের এখন দুই সন্তান। রামপ্রসাদ বলেন, ‘শম্পা আমাকে ভরসা জুগিয়েছে। একসঙ্গে পথ চলার স্বপ্ন দেখিয়েছে।’ রামপ্রসাদ ধন্যবাদ দিতে চান বাবা, মা, ভাই-বোনসহ বন্ধুবান্ধবদেরও। রামপ্রসাদ আরো বলেন, ‘ইচ্ছা শক্তির কাছে যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তুচ্ছ আমি তাঁর প্রমাণ।’

 

 

ছবি : আশিক আদনান

1 thought on “জনপ্রিয় শিক্ষক রামপ্রসাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *